|

আজ ভাল নেই | অতঃপর | হাসান সুমন

দরোজায় আটকে থাকে মেঘলা সকালের বিষন্নতা, জানালায় সবুজ লতাগুলো ডানা ঝাপটায় এদিক সেদিক। অতঃপর | হাসান সুমন

অতঃপর | হাসান সুমন Bitsbyters

ভুল | অতঃপর | হাসান সুমন

তুমি আসবে আবার বলে গেলে তাই ল্যাম্পপোষ্টের বাতিটি নষ্ট হয়ে গেলেও মিউনিসিপ্যালিটির লোকগুলো না আসা পর্যন্ত অবেদন ভাঙ্গে না আমার। অতঃপর | হাসান সুমন

নাগরিক চৌরাস্তা কিংবা কানাগলি | অতঃপর | হাসান সুমন

রাতের সবগুলি নগরী অদ্ভুত সুন্দর। যেনো ঘুমন্ত দেবী তার সমস্ত সৌন্দর্য বেখেয়ালে মেলে রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে এখুনি। পাতাদের শব্দে বুঝি জেগে উঠল এই। যেনো তার বন্ধ চোখ এখনো কথা কইছে। তার সুদীর্ঘ চুল ছুঁয়ে দিলেই বুঝি হয়ে উঠবে একটি শাখাবিহীন নদী। তার আঁচলখানি আর একটু বাতাসে খসে পড়লেই বুঝি সকাল ছাড়াই হয়ে যাবে ক্ষুধার্ত দুপুর। রাতের এই নগরী যেনো তোমার মতোই মুদিত সুন্দর। আমার বুকে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়লে। খানিক পূর্বেই ঘুমিয়ে পড়লে অভিমান শেষ না করেই... অতঃপর | হাসান সুমন

অতঃপর | হাসান সুমন

যে তুমি মৃত্যুকে বলেছো সুখ সেই আমি জীবনকে নিয়েছি টানি, যে আমি আঁধারে হারিয়েছি মুখ, সেই তুমি আলোক দিয়েছো আনি। অতঃপর | হাসান সুমন

পুনশ্চঃ | অতঃপর | হাসান সুমন

পুনশ্চ : তোমাকে বলা হয়নি - ভাল থেকো। শেষবার আসার আগে হাস্নাহেনার সবগুলি পাতা দেখলাম নুয়ে পড়েছে। ঠিকমতো জল দিও দু'বেলা। জলের কথায় মনে পড়ল - স্নানের শেষে চুলগুলো বেঁধে রেখ না। তোমার ঠান্ডা লাগে এতে। তুমি যা মনভুলো। কখনো তোমাকে বলা হয়নি - খোলা চুলে তোমাকে দেবী ভেবে বহুবার ভুল করেছি। আয়নার সামনে বসলে টিপখানি কপালে ছুঁইও কভু। কালো টিপে তোমাকে খুব মানায়। ঘুমিয়ে থাকার ভাণ করে কতবার আয়নায় তাকিয়ে তোমার টিপ নিয়ে খেলা দেখেছি। সবশেষে কালো টিপটি কপালে ঠেঁকিয়ে তুমি হেসে উঠেছিলে; নিঃশব্দে। ঘুমানোর আগে জানালাগুলো বন্ধ করে দিও। মনে আছে? সেবার জোৎস্নাভেজা শ্রাবনের এক রাতে তুমি আমি চোখে চোখে চেয়ে থেকে কখন ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে উঠে তোমার কি কষ্ট'টাই না হল। ইচ্ছে হচ্ছিল তোমাকে জড়িয়ে ধরে বলি - বউ, তুমি আমার মত চৌকিতে বসে থাক। আমি শুষে নেই সব বৃষ্টির জল আমার পিপাসার্ত হৃদয় দিয়ে। ওপাড়ার বৌদি তোমার সাথে ছিল বলে হয়নি আর বলা। আরেকটা কথা। ঘুমানোর আগে চুলগুলো আচ্ছা করে বেঁধে নিও। প্রথম রাতগুলোয় তোমার হাতের কাঁচা মেহেদীর গন্ধে উঞ্চ ক্ষণগুলো শেষে ঘুমিয়ে পড়লে; খুব সকালে কারো ডাকে তুমি জাগতে গিয়ে আমার মুখে, চোখে, সর্বোপরি আমার বুকের গহীনে জড়ানো তোমার সুদীর্ঘ চুলগুলি তাড়াহুড়োয় ছাড়াতে গিয়ে আমাকেও জাগিয়ে তুলতে। আমার লাল চোখ দেখে তুমি কষ্ট পেয়েও একটা হাসি দিয়ে বলতে - তুমি ঘুমোও। আমি না ঘুমিয়ে তোমার অবিন্যস্ত বসনের বিন্যস্ত হওয়া দেখতাম। তারপর তোমার চলে যাওয়া..... একদিন রাতে হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। যা কখনোই হয়নি আগে। দেখি তুমি পাশে নেই। চারটা দেয়াল শেষে আমার চোখগুলি জানালার পাশে তোমায় দেখে জেগে উঠল। তুমি চাঁদের দিকে তাকিয়ে ছিলে, কেমন বিমোহিত হয়ে, বিবর্ণ হয়ে, কি যেন এক কষ্ট নিয়ে সে দীর্ঘ চাহনিতে... অতঃপর | হাসান সুমন

ডাক হরকরা বয়ে নিয়ে যায় তোমার শরীর | অতঃপর | হাসান সুমন

ডাক-হরকরা বয়ে নিয়ে যায় তোমার শরীর। একটা দীর্ঘ কবিতা যেন টুকরো টুকরো হয়ে পথ হেঁটে চলে মুখ আঁটা খামের ভেতর। রাতগুলো ঘোলা চাঁদের নীচে কবিতার দীর্ঘ শরীরের লোভে খুঁজে ফেরে পায়ের ছাঁপ। ডাক-হরকরা বয়ে নিয়ে যায় টুকরো করা তোমাকে। অসম্পূর্ণ কবিতার মত। আমার বুক চোখ মুখ কিংবা যে হৃদয় কখনও ছিলনা তার ভেতর কোথাও ডাক-হরকরার মুখখানি নেই। শুধু দেখি ছুঁটে চলা। পা তুলে ফেলতেই আরেকটা পাতা মাটি ছুঁয়ে যায়। পিছনে থাকে শুধু আমার ক্লান্ত চোখের অনুকবিতার মত চাহুনি। ছুঁটতে ছুঁটতে ডাক-হরকরা কখন যেন চার চাঁকার যন্ত্র হয়ে যায়। জমিন থেকে হারিয়ে যায় কোন পলকের আড়ালে মেঘের ভেতর। তোমার টুকরো শরীর, খাম থেকে বের হয়ে আসা তোমার পলিশ করা নখ, খুব কষ্ট পেয়ে একরাতে লিখে রাখা একটা লাইন, একটা দীর্ঘ কবিতার সবগুলো প্রত্যঙ্গ, সব হারিয়ে যায়। ডাক-হরকরার মুখখানি বহুবার ভুলে গিয়ে একবার ও মনে আসে না। শুধু তার ছুঁটে চলা, গত জীবন থেকে যেখানে থেমে আছি এক টুকরো তোমার জন্য, তার বিপরীত দিকে। ডাক-হরকরার কাছে আমার ঠিকানায় কোন কবিতা আসে না। একটা দীর্ঘ কবিতার মত তুমি হারিয়ে যাও, নামহীন সবগুলো অনিদ্রা হয়ে, প্রতিটা অক্ষরের সংযুক্তি কিংবা প্রতিটা শব্দের শেষে শূণ্যস্থানসহ। ডাক-হরকরা বয়ে নিয়ে যায় তোমার শরীর। একটা দীর্ঘ কবিতা যেন টুকরো টুকরো হয়ে পথ হেঁটে চলে মুখ আঁটা খামের ভেতর। কার ঠিকানায়? অতঃপর | হাসান সুমন